July 28, 2012

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য রজার হ্যারোপের পরামর্শ

পেশাদার বক্তা ও লেখক রজার হ্যারোপের জন্ম যুক্তরাজ্যে। হ্যারোপ বিভিন্ন কোম্পানির ঊর্ধ্বতন পদে চাকরি করেছেন। এখন তিনি ব্যবসাবিষয়ক পেশাদার বক্তা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
”আমি একসময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু এখন আমি আমার নিজের দ্বিতীয় ক্যারিয়ার শুরু করেছি। এখানে আমি কারও হয়ে চাকরি করি না। আমার এই দ্বিতীয় ক্যারিয়ারে আমি একজন পেশাদার বক্তা। এর অংশ হিসেবে দুনিয়াজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সম্মেলনে বক্তৃতা করে বেড়াই আমি। আমি ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করি। বিভিন্ন বিপদাপন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিপদ বা লোকসান থেকে উদ্ধারের জন্য পরামর্শ দিই আমি। আরও ভালোভাবে বলতে গেলে, আমি আসলে সব প্রতিষ্ঠানের সব সমস্যাকে একটু অন্যভাবে পর্যবেক্ষণ করে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করি। আর এটা আমি করতে পারি; কারণ, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে ব্যবসা-বাণিজ্য আসলে তেমন কঠিন কিছু নয়।
যা হোক, আজ আমি নতুন উদ্যোক্তাদের (entrepreneur) জন্য ১০টি পরামর্শ দেব।

কেন আপনি নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক Howard H. Stevenson এর থেকে জেনে নিন কেন ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আপনি নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না।
Howard H. Stevenson হচ্ছেন আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের Sarofim-Rock Baker Foundation Professor, Senior Associate Dean এবং Harvard Business Publishing Company board এর চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের Senior Associate Dean এবং Director হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত Latin American Faculty Advisory Group এর চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত Harvard University Resources and Planning এর Vice Provost এবং Senior Associate Provost হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে রচিত “A Perspective on Entrepreneurship” আর্টিকেলে তিনি ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ে গভীর এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন। এই আর্টিকেলটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের কাছেই সারা বিশ্বে আজও খুব সমাদৃত।

ব্যবসা শুরুর আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন

নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত উত্তেজনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ব্যবসাটি এ মুহূর্তে শুরু না করলে আমি খুব বড় কিছু মিস করবো_ এ ধারণা থেকে নতুন ব্যবসায়ীরা প্রায়ই ব্যবসাটি সম্পর্কে ভালোমতো খোজ-খবর না নিয়েই বা লাভ-লোকসানের বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই না করেই ব্যবসায় নেমে পড়েন। এ জন্য পরে অনেককেই ভোগানন্তি পোহাতে হয়।
আপনি কি ব্যবসাটি সম্পর্কে যথেষ্ট খোজ-খবর নিয়েছেন?
# প্রতিদ্বন্দ্বিতার এ যুগে আপনার ব্যবসাটির সম্ভাব্য বাজার, ব্যবসা ক্ষেত্রে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান, ব্যবসাটি পরিচালনার নাড়ি-নক্ষত্র, মোট কথা নিজস্ব মার্কেটিং পলিসি সম্পর্কে সঠিক পরিকল্পনা না করেই ব্যবসায় নামলে আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
# আবার খুব বেশি গবেষণা করলে ব্যবসাটি হয়তো আপনার করাই হবে না। তাই কিছু ঝুকি আপনাকে নিতেই হবে, তবে তা একেবারে অন্ধকারে থেকে নয়।

এটিকেট ও ম্যানার্স - সময়ের প্রয়োজনীয় একটি বই

তরুণ এবং উদীয়মান ব্যবসায়ীরা এই বইটি অবশ্যই পড়বেন
বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের অনেক কিছুই জানা থাকতে হয় যেটা একাডেমিক ক্লাসে পড়ানো হয় না। কিন্তু এ বিষয়গুলো জানা না থাকলে বা তার প্রয়োগ না ঘটালে একাডেমিক সাফল্যও অনেক সময় ম্লান হয়ে যায়। আর বিষয়টি হলো এটিকেট অ্যান্ড ম্যানার্স। অর্থাৎ সমাজে চলার জন্য যে নিয়ম মেনে চলতে এবং যে ধরনের ব্যবহার করতে হয়। সেটা হতে পারে টাইয়ের নট বাধা কিংবা কাটা চামচের ব্যবহার। এসব বিষয় নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকে। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রকাশনা চোখে পড়ে না। তবে বর্তমান কর্পরেট জগতে জায়গা করে নিতে যে বিষয়গুলো একেবারে শুরুতেই জানা প্রয়োজন এমন সব বিষয় সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে অ্যান একজিকিউটিভ হ্যান্ডবুক অফ এটিকেট অ্যান্ড ম্যানার্স বইটি।

পেশায় কিভাবে সফল হবেন

লেখাটা পড়ুন। কাজে লাগবে। আমি কাজে লাগাতে পারিনি। তাতে কী ! আপনি তো পারতেও পারেন। পড়ুন এবং কামিয়াব হোন। সাইকোলজি টুডে পত্রিকার একটা লেখা অবলম্বনে দিলাম। দুনিয়ার তাগড়া-বাগড়া পেশাদারদের পরামর্শের সারসংক্ষেপ।
১. চাকুরি হারানো, কোম্পানি বন্ধ হওয়া, অবহেলিত হওয়া বা জ্বলেপুড়ে শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, তার আগেই নতুন চাকরির সন্ধান করুন।
২. যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিটি সাক্ষাৎ ও আলাপ-আলোচনাকে সাক্ষাৎকার হিসেবে দেখুন। বলা তো যায় না, কখন কোন কাজে লাগবে।
৩. নিজে যা পারেন সেটার ওপর বেশি জোর দিন। যা পারেন না তার ওপর জোর দিলে নিজের দুর্বলতাই প্রকাশ পায়।
৪. পেশাগত ক্ষেত্রে অন্তত কাজ পাগল হবেন না। হলফ করে বলতে পারি এতে কোনো সুফল আসবে না। বরং কাজের নিচে চাপা পড়ে মরবেন।

ঝুকি নেয়ার বিকল্প নেই

মাইকেল ব্লুমবার্গের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র। ২০০৭ সালে টাফটস ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে তিনি এ বক্তৃতা করেন।
আজকের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আমি পাঁচটি জিনিসের কথা উল্লেখ করব। নোট নেওয়ার দরকার নেই। কারণ, আপাতত তোমরা আর কোনো পরীক্ষা দিতে যাচ্ছ না! তোমাদের কেবল মন দিয়ে শুনতে হবে।
প্রথমত, তোমাকে অবশ্যই ঝুঁকি নিতে হবে। সেটা পছন্দের কাউকে বাইরে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া, কঠিন কোনো কোর্সে যোগ দেওয়া কিংবা বন্ধুর কাছে টাকা ধার চাওয়া—যা-ই হোক না কেন, ঝুঁকি নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমি জানি, আজকের এই দিনটিতে আসার জন্য তোমাদের এরই মধ্যে অনেক ঝুঁকি নিতে হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

ক্যারিয়ারের জন্য আত্মবিশ্বাসী হোন

১. বি ফোকাসড, এক প্রাচীন শিক্ষক তার ছাত্রদের তীর-ধনুক বিদ্যা শেখাচ্ছিলেন। মাঠের পাশের গাছটিতে একটি কাঠের পাখি রেখে সবাইকে বললেন, পাখির চোখটিকে তাক করতে। প্রথম শিক্ষার্থীকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি দেখতে পাচ্ছো? সে বললো, আমি আকাশ দেখছি, গাছ দেখছি, ডালপালা দেখছি, পাখিটা দেখছি, তার চোখ দেখছি। শিক্ষক তাকে তীর ছুড়তে নিষেধ করলেন। দ্বিতীয় জনকে একই প্রশ্ন করা হলো। সে বললো, আমি শুধু পাখির চোখ দেখতে পাচ্ছি। বেশ, ছোড়ো তীর, শিক্ষক বললেন। তীর সোজা গিয়ে লক্ষভেদ করলো। মোরাল অফ দি স্টোরি? ফোকাসড না হলে লক্ষে পৌছানো খুব কঠিন। কড়া রোদে এক খন্ড কাগজের ওপর ম্যাগনিফাইং গ্লাস ধরে অনবরত ঘোরাতে থাকুন। জ্বলবে কাগজটি? কখনোই না। কিন্তু একটি জায়গায় ফোকাস করে গ্লাসটিকে স্থির করে রাখুন। অল্প সময়ের মধ্যেই জ্বলে উঠবে কাগজটি। লক্ষে পৌছানোর জন্য ফোকাসড হওয়া এতোটাই জরুরি।